তন্ত্র মন্ত্র-টোটকা দ্বারা যে কোন স্ত্রী বা পুরুষকে শীঘ্র বশীভূত করার নিয়ম
ইসলামী শাস্ত্রে বশীকরণ তন্ত্রে বর্ণিত তন্ত্র মন্ত্র-টোটকা দ্বারা যে কোনও স্ত্রী বা পুরুষকে শীঘ্র বশীভূত করার অনেক প্রভাবশালী উপায়ের বর্ণনা আছে।
মুসলিম বশীকরণতন্ত্রে অনেক কার্যকরী যন্ত্রের উল্লেখ আছে। এই যন্ত্রের দ্বারা ক্রোধিত ব্যক্তিকে মুহূর্তের মধ্যে শান্ত করা যায়। কোনও মালিক, শুভচিন্তক, অফিসার বা বন্ধু যদি আপনার উপর অসন্তুষ্ট থাকে তো সুলেমানী বশীকরণ যন্ত্রের সাহায্যে তাকে সহজেই বশীভূত করা যায়।
কেউ হয়তো কাউকে পেতে চায় কিন্তু সে ব্যক্তি তাকে ঘৃণা করে, এরূপ ক্ষেত্রে এ যন্ত্র খুবই কার্যকরী। কোন মেয়ে কোন ছেলেকে ভালবাসে ও তাকে বিয়ে করতে চায়, কিন্তু ছেলেটির বাবা, মা রাজি নয়, সেক্ষেত্রে এই সুলেমানী বশীকরণ নক্সা তাকে সাহায্য করবে। এই সমস্যাগ্রস্ত ছেলেটিও এই সুবিধা পেতে পারে।
প্রেম ভালবাসার ক্ষেত্রে ছেলেটি ও মেয়েটির সম্পূর্ণ সমস্যা বোঝার পর তবেই উক্ত কাজটি সাধকের হাতে নেওয়া উচিত। অনেক বিবাহিত মহিলার স্বামী নিজ স্ত্রীকে দেখতে পারে না কারণ হয়তো সে প্রেমিকা বা রক্ষিতার মোহজালে আবদ্ধ হয়েছে। এই সব দুঃখী মহিলার সমস্যার সমাধানে এই বশীকরণ নক্সা কার্যকরী হবে।
মুসলিম বশীকরণের জন্য বিশিষ্ট পদ্ধতি ও টোটকা
প্রতিটি মানুষের এই ইচ্ছা থাকে যে সকলে তার বশীভূত হয়ে তার ইচ্ছানুসারে কাজ করুক। অপরকে আকর্ষণ করার ব্যাপারে বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন প্রকার সাধনা, প্রয়োগ, টোটকা, টোনা জাদু ইত্যাদি চলে আসছে সেই আদিকাল থেকেই। এখনও মানুষের মধ্যে বশীকরণের প্রতি আকর্ষণ সমান-ই আছে। এখানে বশীকরণ করার কিছু সরল অথচ প্রভাবশীল প্রয়োগ দেওয়া হলঃ
- ইংদোরনি চিনাবরী এবং মৈনসিল (চিৎপুরে পাওয়া যায়) সমান ভাগে নিয়ে হামানদিস্তায় কুটে নিজের অংগে লাগিয়ে ধুপ-দীপ জ্বালিয়ে পূজাদি করলে সাধককে যে দেখবে সে-ই মোহিত হবে।
- গোড়ালেবুর শিকড় ও ধুতরার বীজ পিঁয়াজের সাথে মিহি করে পিষে যাকে শুঁকানো যাবে সে-ই বশীভূত হবে।
- মঙ্গলবার দিন যদি অমাবস্যা হয় তবে ঐ দিন দৈনিক ক্রিয়া শেষ করে পবিত্র হয়ে বনে গিয়ে উত্তর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আপাং গাছের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এবার ঐ স্থানে কোন ব্রাহ্মণকে ডেকে ঐ গাছটিকে বিধিমত পূজা করে ব্রাহ্মণকে ১৫ মাশা স্বর্ণ দান হিসাবে দিতে হবে। এবার ব্রাহ্মণের দ্বারা আপাং গাছটির বীজ এনে তা নিজের ঘরে নিয়ে যাবে। পথে কাউকে কিছু বলবে না। ঐ বীজ পরিষ্কার করে যদি রাজাকে খাওয়ানো যায় তো রাজা সারা জীবন সাধকের বশীভূত হবে।
- বেলপাতা ও মাতুলংগ (এক প্রকার লেবু) নিয়ে ছাগলের দুধে পিষে তা দিয়ে তিলক কাটলে তা শ্রেষ্ঠ বশীকরণ হয়।
- পুষ্যনক্ষত্রে আপাং-এর বীজ নিয়ে তা পান-ভোজনের সংগে রাজাকে খাইয়ে দিলে রাজাও সাধকের বশীভূত হবে।
- ঘি, গোয়ারের কন্দ, ভাং-এর বীজ একসাথে পিষে তিলক করে পরলে বশীকরণ হবে।
- নীলকমল, গুগণ্ডল এবং অগরু এইগুলি সমমাত্রায় নিয়ে নিজ অংগে লাগিয়ে ধূপ ধূনা জ্বালালে যে দেখবে সে মোহিত হবে।
- পুষ্যনক্ষত্রে সিংঘীর শিকড় তুলে আনতে হবে এবং সেটি কোমরে বেঁধে রাজসভায় গেলে সবাই বশীভূত হবে।
- ডুমুরের ফুলের দ্বারা পলতে বানিয়ে মাখন ভরা প্রদীপে রাতে জ্বালিয়ে কাজল তৈরি করে ও তা চোখে পরলে সেই দিকে যে তাকাবে সে-ই বশীভূত হবে।
- পুষ্যনক্ষত্রের অন্ধকার রাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে তার শিখা দিয়ে কাজল বানিয়ে তাতে হরতাল ও সুহাগা মিশিয়ে ময়ূরের পাখনা দিয়ে যার মাথায় দেবেন সে-ই বশীভূত হবে।
- চৈত্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীর দিন চিতাগাছকে জানান দিয়ে আসবে। এবার নবমীর দিন ঐ গাছ নিয়ে এসে ধুপ দীপ জ্বালিয়ে নিজের কাছে রাখলে সকলেই তোমার বশীভূত হবে।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় সরপোখা গাছের শিকড়কে বিধি পূর্বক তুলে এনে জলের সাথে শিলনোড়ায় পিষে চোখে কাজলের মতো পরতে হবে। সেই চোখের দিকে যে-ই তাকাবে সে-ই বশীভূত হবে।
- পুষানক্ষত্রে পুনর্নবার শিকড় এনে ডানবাহুতে বাঁধলে সবলোক বশীভূত হবে।
- সুদর্শন গাছের শিকড়কে বাহুতে বেঁধে রাজার কাছে গেলে রাজাও বশীভূত হবে।
- চন্দন, রোলি, গোরোচন, কর্পূর একসাথে মিশিয়ে লাগালে রাজাগণ বশীভূত হবে ।
- মেঢাসিংগী, বচ, ধুনো, খস্য, চন্দন ও ছোট এলাচ সমানমাত্রায় নিয়ে কুটে পিষে নিতে হবে। এবার ঐ সব জিনিসের ধূনো তৈরি করে তা জ্বালিয়ে পরিধে কাপড়ে তার ধূনো দিলে যে কোনও স্ত্রী বা পুরুষ বশীভূত হবে।
- শ্রবণানক্ষত্রের দিন নিয়ে আসা বেতগাছের টুকরো ডান হাতে ধারণ করলে যুদ্ধেও বিজয় প্রাপ্ত হবে।
- চন্দন এবং বটের মূল জলের দ্বারা পিষে সমমাত্রায় ভস্ম মিশিয়ে কপালে তিলক কাটলে যে তা দেখবে সে-ই বশীভূত হবে।
- ডুমুরের শিকড় এনে তা পিষে তা দিয়ে কপালে তিলক কাটলে উত্তম বশীকরণ হবে।
- পঞ্চমী তিথিতে হুর-হর গাছের শিকড় তুলে এনে তা শুকিয়ে পিষে পানের মধ্যে দিয়ে যাকে খাওয়াবে সেই বশীভূত হয়ে কাছে চলে আসবে।
- পুষ্যনক্ষত্রে আপাং এর বীজ এনে কোন খাদ্য বস্তুতে মিশিয়ে তা যা-কে খাওয়াবে সে-ই বশীভূত হবে।
- ভোজপত্রের উপর লালচন্দন দিয়ে শত্রুর নাম লিখে তা মধুতে ডুবিয়ে রাখলে উক্ত শত্রু বশীভূত হয়।
- বাদামের পঞ্চাংগ যথা ফল, ফুল, মূল, পাতা ইত্যাদি এবং সাদা ঘুংঘচী ফল এক সাথে পিষে কপালে তিলক করে কাটলে যে বা যারা তা দেখবে সকলেই (স্ত্রী বা পুরুষ) বশীভূত হবে।
- পূর্বফল্গুনীনক্ষত্রে কোনও বাগানে গিয়ে অনার নিয়ে আসতে হবে এবং ঐ অনার কে ধূপ-দীপ দেখিয়ে নিজ ডান হাতে বেঁধে রাজসভায় গেলে রাজাও বশীভূত হবে।
- মুথা ঘাসের শিকড় মুখের মধ্যে রেখে যার নাম উচ্চারণ করা যাবে সে-ই বশীভূত হবে।
- ভরণী বা পুষ্যনক্ষত্রতে চাঁপার কলি এনে হাতে বাঁধলে লোক বশীভূত হবে।
- মধু খস্ ও চন্দন মিশিয়ে তা দিয়ে তিলক কেটে যে স্ত্রী বা পুরুষের কাঁধে হাত দেবে সে-ই বশীভূত হবে।
- ভরণী বা পুষ্যনক্ষত্রে সুদর্শন গাছের শিকড় এনে যদি বাহুতে বাঁধা যায় তাহলে সে সবাইকে বশ করতে পারবে।
- পুষ্যনক্ষত্রে নিয়ে আসা চামেলি বা চম্পা গাছের শিকড় তাবিজে ভরে ধারণ করলে শত্রুও বশীভূত হয় ও সর্বত্র বিজয়প্রাপ্ত হয়।
Comments
Post a Comment